সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত; নিপীড়ক-ধর্ষক-খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

dscf2490copyসারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ, নির্যাতনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। নির্যাতক-ধর্ষক-খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে ৪ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য মুক্তা বাড়ৈ। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর ঢাকা নগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৯ মাসে সারাদেশে বিভিন্ন বয়সের ৪৬৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে অর্থাৎ প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার গড়ে প্রায় ৫২ জন। মামলা হয়েছে মাত্র ২৫০টি। আর শুধুমাত্র গত অক্টোবর মাসেই ১১৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অপরাধীরা ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে পার পেয়ে যায়। ফলে ক্ষমতায় যারা আছে তারা অপরাধ করতে শঙ্কা বোধ করে না। একের পর এক নারী-শিশু নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। তনুর হত্যাকারীরা ক্ষমতাধর তাই ৬ মাস পরও কোন বিচার হলো না, আফসানার হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতা তাই গ্রেফতার করা হলো না। এই বিচারহীনতার রেওয়াজ দুর্বৃত্তদেরকেই প্রশ্রয় দেয়। দেশের মানুষ এই বিচারহীনতার অবসান চায়।
dscf2489copyবক্তাগণ বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। আশু পদক্ষেপ ও দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি নির্যাতনের ন্যায় বিচার ও দ্রুত বিচার করাটা হবে আশু পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের মধ্যে মাদক আমদানি, উৎপাদন, সরবরাহ বন্ধ করা, পর্ণ সাইট বন্ধ করা, অশ্লীল বিজ্ঞাপন-নাটক-সিনেমা সেন্সর করা, পরিবার ও গণ-জীবনের সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করা (ইউনিফরম সিভিল কোড চালু করা), সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের আইন করা, কর্মক্ষেত্রে সমতা ভিত্তিক মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা, সমকাজের সমমজুরি নিশ্চিত করা, বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতাসহ মহিয়সী নারীদের কর্ম ও জীবনগাঁথা এবং ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে নারীদের ভূমিকা পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত করা। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
সমাবেশ থেকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, হবিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বগুড়াসহ সারাদেশে হিন্দুধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের উপর বর্বর নির্যাতন, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং অবিলম্বে দায়ী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।