সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী- সংবাদ সম্মেলনে ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী

Manisha Chakrabortyআগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী। আজ সকাল ১০.৩০টায় ফকিরবাড়ি রোডস্থ বাসদ কার্যালয়ে ‘বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং নির্বাচনের পরিবেশ’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, জেলা কমিটির সদস্য বদরুদ্দোজা সৈকত, এইচ ইমন, মিঠুন চক্রবর্ত্তী, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেয়র প্রার্থী বাসদের সদস্য সচিব ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী। নিম্নে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য দেয়া হলো-
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে
সংবাদ সম্মেলন
বাসদ কার্যালয়
ফকিরবাড়ি রোড, বরিশাল
২৮ জুলাই ২০১৮, সকাল ১০.৩০ মি
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আর এক দিন পর বরিশাল নগরবাসী তাদের সুচিন্তিত বিবেকের রায় দিয়ে ৫ বছরের জন্য তাদের সেবা করার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাই ভোটের প্রক্কালে প্রিয় ভোটারবৃন্দ এবং নগরবাসীর উদ্দেশ্যে কিছু কথা আপনাদের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছি। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে উপসিস্থত হওয়ার জন্য আপনাদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!
প্রিয় বরিশালবাসী,
আমি ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী। আমার প্রতীক মই। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচার অভিযানে নেমে আমি বরিশালের রিক্সা চালক, হকার, বস্তিবাসি, দোকানদার, শ্রমিক-কর্মচারী, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কবি-সাহিত্যিক, ছাত্র, নারীসহ সর্বস্তরের আপামর বরিশালবাসী যে সমর্থন-সহমর্মিতা, আর্থিকসহ সর্বপ্রকার সহযোগিতা এবং ভালবাসা পেয়েছি তাতে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত। বরিশালবাসী তাঁদের এই হৃদয় নিংড়ানো সমর্থনের মাধ্যমে আমাকে ঋণী করেছে। এখন আমি বরিশালের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দরকার একটি সুষ্ঠু সমান সুযোগের পরিবেশ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সে পরিবেশ এখনো পরিপূর্ণভাবে তৈরি করতে পারেনি।
কমিশনের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মুখে আচরনবিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঙ্কার দিলেও বাস্তবে শাসক দলের প্রার্থী প্রথম দিন থেকেই আচরনবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটালেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অথচ অপরাপর প্রার্থীর বেলায় পান থেকে চুন খসলেই নানা হয়রানী করা হয়েছে। এক প্রার্থী সরাসরি ধর্মকে ব্যবহার করলেও তাকে শুধু সতর্ক করেই ক্ষান্ত দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বস্তিবাসী, রিক্সাচালক আমার পক্ষে যারা প্রচার কাজ করেছে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে মারধোরও করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি।
সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সরকারী কর্মকর্তা, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়ররা প্রচার অভিযান চালাচ্ছে যা আচরণবিধির সুপষ্ট লঙ্ঘন।
একটা কথা প্রিয় ভোটারদের কাছে বলতে চাই একটি বিশেষ মহল আমার সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে- আমি বসে গেছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি বসে পড়ার জন্য নয়। আমি জয় লাভের জন্য নির্বাচন করছি কারণ আমার জয় লাভের উপর বরিশালের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। আমি কখনোই শ্রমজীবী গরীব মানুষের ভালবাসার প্রতি বিশ^াসঘাতকতা করতে পারি না। আমার উপর বিশ^াস রাখুন, আপনাদের উপরও আমার বিশ^াস আছে, ভরসা আছে।
এমতাবস্থায়, বরিশালবাসী শঙ্কিত। তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা? নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যেতে ও ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা? এ ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করছি। আমার ভোট আমি দেবো, দেখে শুনে যোগ্য প্রার্থীকে দেবো- এটা কি করতে পারব? নাকি খুলনা-গাজীপুর মার্কা ভোটের মাধ্যমে জনগণের সংবিধান স্বীকৃত ভোটের অধিকারকে প্রহসনে পরিণত করা হবে।
আমি মনীষা চক্রবর্ত্তী সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে বরিশালের ভোটার ভাই বোনদেরকে আহ্বান জানাতে চাই-
সকল প্রকার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রযোগের মাধ্যমে আপনাদের সেবক হিসেবে যোগ্য শিক্ষিত সৎ দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। যাতে আগামী দিনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন হতে পারে উন্নয়নে, সমৃদ্ধিতে আধুনিক বাসযোগ্য নগরী। আগামী ৩০ জুলাই মই মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সুনিশ্চিত রায় দিয়ে জয়যুক্ত করেন।
আপনাদের নীতি মূল্যবোধ ও বিবেককে জয়ী করবেন। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সাংবাদিক বন্ধুদের আবারো ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।