২০ রোজার মধ্যে সকল শ্রমিকের পূর্ণ উৎসব ভাতা-ওভারটাইম- চলতি বেতনসহ প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করুন-গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

110616-GSF-1২০ রোজার মধ্যে পূর্ণ উৎসব ভাতাসহ প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধ, ন্যূনতম মজুরি ১৫০০০/= টাকা ঘোষণা এবং শ্রমিকদের জন্য সল্পমূল্যে আবাসন, আর্মিরেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি রেশনিং ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে ১১ জুন ২০১৬,শুক্রবার, বিকাল ০৩-০০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখস্ত সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি জাহেদুল হক মিলু, সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, কোষাধক্ষ্য জুলফিকার আলি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খায়রুল কবির, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস প্রমূখ।110616-GSF-2মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছর রোজার শুরুতে শ্রম মন্ত্রনালয় মালিকদের সাথে বৈঠক করে সকল পোষাক শিল্প শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু মালিকরা ঈদের ছুটির পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত শ্রমিকদের বোনাস-বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের জিম্মি করে। ঈদের আগ মুহুর্তে শ্রমিকরা যখন স্বজনদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য উদগ্রিব হয় তখন মালিকরা শ্রমিকদের বোনাস না দিয়ে বকশিশ হিসাবে কিছু টাকা দিয়ে আর আংশিক বেতন দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে। শ্রমিকদের তখন প্রতিবাদ করার কোন সুযোগ থাকেনা । প্রতিবাদ করলেও উৎসবের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলার অজুহাতে সরকার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এক বছর পূর্বে পে-কমিশন ঘোষিত হয়েছে কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা যা সামাজিক বৈষম্যকে প্রকট করে তুলছে। দেশরক্ষা বাহিনি সমূহ রাষ্ট্রের ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আর ঊৎপাদনের চাকা সচল রেখে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তি রচনা করে শ্রমিক। অথচ শ্রমিকের খাদ্য নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ আবাসনের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি।
নেতৃবৃন্দ ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় মালিকদের বহন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তিকে নিশ্চিত করতে এবং মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ১৫০০০/= টাকা ঘোষণা ও শ্রমিকদের জন্য সল্পমূল্যে আবাসন, আর্মিরেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি রেশনিং , বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।