সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডাক-

 

নারী নির্যাতন বন্ধ, নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীর মানবিক মর্যাদা ও নারীমুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করুন

logo-SWF

৫ জানুয়ারি ২০১৬ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এক যুক্ত বিবৃতিতে সকল নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং নারী সমাজসহ দেশবাসীকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য, নারী পুরুষের সমান অধিকার, নারীর মানুষ হিসেবে মর্যাদা এবং শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৪ সালের ৫ জানুয়ারি সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতা, অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি, নারীর প্রতি সহিংসতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য-নিপীড়ন এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে। দিনাজপুরের ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ভূমিকা রেখেছে। নারীনেত্রী কল্পনা চাকমার অপহরণ ও আদিবাসী নারীদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করেছে। গাইবান্ধার তৃষা, চট্টগ্রামের সীমা, মাগুরার পূর্ণিমা, ঢাকার ইলোরা, তানিয়া, রিতু, সুমাইয়া, সিরাজগঞ্জের রূপালী, শরিয়তপুরের হেনা, ফরিদপুরের রূপাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এককভাবে ও ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। ইভটিজিং এর প্রতিবাদকারী শিক্ষক মিজানুর রশীদ ও মা চাঁপা রাণী ভৌমিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশসহ নারী নির্যাতন ও হত্যাকা-ের সকল ঘটনায় সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়েছে। নারী-শিশু পাচার, শিশু নির্যাতন, ঔষধ ও খাদ্যে ভেজাল, শিশুখাদ্যসহ দুধে মেলামিন ভেজালের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গণআদালত ও গণজাগরণ মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন সংগঠিত করা, ফতোয়াবাজির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা, অশ্লীলতা-অপসংস্কৃতি-ইভটিজিং বন্ধ করা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলাসহ জাতীয় নানা ইস্যুতেও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। দেশের বন্দর, গ্যাস, কয়লা, বিদ্যুৎ, পানি এবং নদী রক্ষার দাবিতে লংমার্চের মত কর্মসূচিতেও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। হেফাজতে-ইসলামীর নারী অধিকার বিরোধী ১৩ দফা প্রতিরোধসহ মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বীরাঙ্গনাসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল নারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করেছে। সম্পত্তির উত্তরাধিকারসহ ইউনিফরম সিভিল কোড অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় নারীনীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। গৃহস্থালি কাজের আর্থিকমূল্য নির্ধারণ করে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন করছে। মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্ত সাপেক্ষে ১৬ বছর না করার জন্য আন্দোলন করছে। বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতা ও জাহানারা ইমামসহ অতীত দিনের মহিয়সী নারীদের জীবনসংগ্রাম থেকে শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী তাঁদের স্মরণসভা করার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়তে নারী সমাজকে উদ্বুদ্ধ করছে। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে, শুধু অধিকারের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সমাজ সচেতনতা বিকাশ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সংগ্রামের পথেই সত্যিকার মর্যাদা ও অধিকার আদায় সম্ভব। সমাজের আমূল পরিবর্তনের বিপ্লবী লড়াইয়ের পথে সার্বিক মুক্তি একদিন অর্জিত হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ হয় না। গণতন্ত্র, মানবতা ও সভ্যতার স্বার্থে, উন্নত রুচিবোধ ও সংস্কৃতি চেতনার আলোকে নারী-পুরুষের সৌন্দর্যম-িত মিলিত জীবন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের বিকল্প নেই। সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতির স্বার্থে, সুস্থ নিরাপদ জীবন যাপন ও পরবর্তী প্রজন্মের মনুষ্যত্ব নিয়ে বেড়ে উঠার স্বার্থে আজ নারী-পুরুষের মধ্যকার অসাম্য-বৈষম্য বিলোপ সময়ের দাবি। সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে সকল প্রকার অসুস্থ মানসিকতা, প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা, ভোগবাদী প্রবণতা দূর করার জন্য একটি শক্তিশালী নারী সংগঠন, নারী মুক্তি আন্দোলন ও নারী-পুরুষের মিলিত সংগ্রাম অপরিহার্য।
নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামকে সর্বদিক থেকে সহযোগিতা দিয়ে ও অংশগ্রহণ করে শক্তিশালী করুন। দেশে, রাষ্ট্রে, সমাজে, পরিবারে সর্বত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করুন। সাম্যসমাজ নির্মাণের পরিপূরক বিপ্লবের জমি তৈরি করুন।