৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডাক-নারী নির্যাতন বন্ধ কর, নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কর

পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-মৌলবাদ রুখে দাঁড়ান; নারীমুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করুন
IMG_1252সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের উদ্যোগে ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিপালী রানীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলরুবা নূরী, ইসরাত জাহান লিপি ও রুখসানা আফরোজ আশা।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, সমাজে নারীর মানবিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর নারী সংগঠন হিসেবে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ হয় না। গণতন্ত্র, মানবতা ও সভ্যতার স্বার্থে, উন্নত রুচিবোধ ও সংস্কৃতি চেতনার আলোকে নারী-পুরুষের সৌন্দর্যমণ্ডিত মিলিত জীবন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের বিকল্প নেই। সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতির স্বার্থে, সুস্থ নিরাপদ জীবন যাপন ও পরবর্তী প্রজন্মের মনুষ্যত্ব নিয়ে বেড়ে উঠার স্বার্থে আজ নারী-পুরুষের মধ্যকার অসাম্য-বৈষম্য বিলোপ সময়ের দাবি। সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে সকল প্রকার অসুস্থ মানসিকতা, প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা, ভোগবাদী প্রবণতা দূর করার জন্য একটি শক্তিশালী নারী সংগঠন, নারী মুক্তি আন্দোলন ও নারী-পুরুষের মিলিত সংগ্রাম অপরিহার্য। শুধু অধিকারের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সমাজ সচেতনতা বিকাশ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সংগ্রামের পথেই সত্যিকার মর্যাদা ও অধিকার আদায় সম্ভব। সমাজের আমূল পরিবর্তনের বিপ্লবী লড়াইয়ের পথে সার্বিক মুক্তি একদিন অর্জিত হবে।
নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামকে সর্বদিক থেকে সহযোগিতা দিয়ে ও অংশগ্রহণ করে শক্তিশালী করুন। দেশে, রাষ্ট্রে, সমাজে, পরিবারে সর্বত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করুন। সাম্যসমাজ নির্মাণের পরিপূরক বিপ্লবের জমি তৈরি করুন।

  • সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ফতোয়া, যৌতুক, উত্ত্যক্তকরণসহ ঘরে-বাইরে সর্বত্র সকল প্রকার নারী নির্যাতন রুখে দাঁড়ান।
  • কৃষিসহ সকল স্তরে সমকাজে নারী-পুরুষের সমমজুরি নিশ্চত করুন। গৃহ শ্রমিক সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন করুন।
  • সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত কর। ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু কর। সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নিন।
  • গৃহস্থালি কাজকে অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিন, জিডিপি’র অন্তর্ভুক্ত করুন। জেলায় জেলায় দুঃস্থ নারী পুর্ণবাসন কেন্দ্র করুন। প্রসূতি ভাতা দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে ৬ মাস সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করতে হবে।
  • ঢাকাসহ নগর ও পৌর এলাকায় এলাকা ভিত্তিক সরকারিভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করতে হবে। ঢাকা নগরে নারীদের জন্য বিশেষ গণপরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে। নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করতে হবে। প্রতি উপজেলায় সরকারিভাবে নারী হোস্টেল নির্মাণ করুন।
  • বিজ্ঞাপন-নাটক-সিনেমায় নারীকে অশ্লীল ও পণ্যরূপে উপস্থাপন বন্ধ করুন।
  • দুঃস্থ নারী মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনর্বাসন করুন। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বীরগাথা, বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতাসহ মহিয়সী নারীদের জীবন-সংগ্রাম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করুন।