নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্স প্রদান করে রিকশাসহ ব্যাটারি চালিত যানবাহন আধুনিকায়ন কর

  •  
  •  
  •  

004ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয় আধুনিকায়ন করে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান, প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্প গতির এবং জনগণের সীমিত গতির যানবাহন চলাচলের স্বার্থে পৃথক লেন, সার্ভিস রোড নির্মাণ করাসহ ৪ দফা দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ২৫ সেপ্টেম্বর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রিকশা শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক খালেকুজ্জামান লিপনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হাজার-হাজার রিকশা শ্রমিকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ-হেল-কাফী-রতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, স্কপের যুগ্মসমন্বয়ক কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বরিশালের ডা. মণীষা চক্রবর্তী, খুলনার জনার্দন দত্ত নান্টু ও হারুনুর রশিদ, ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক নেতা মোশারফ হোসেন, সিলেটের আবুজাফর, তাজুল ইসলাম ও সাঈদ আহমেদ, কুড়িগ্রামের আফজাল হোসেন বুলু ও মোসলেহ উদ্দিন, ফেনীর মালেক মনসুর ও মোহাম্মদ হোসেন, কিশোরগঞ্জের হানিফ মিয়া, দিনাজপুরের কিবরিয়া হোসেন, বগুড়ার মাসুদ পারভেজ, কুষ্টিয়ার আশরাফুল ইসলাম, কুমিল্লার নাসিরুল ইসলাম মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের মেহেদি হাসান, গাজীপুরের অ্যাড. আব্দুল কাইয়ুম, চাঁদপুরের আবু তাহের, লক্ষ্মীপুরের লক্ষণ অধিকারী হৃদয়, নাটোরের কোরবান আলী, গাইবান্ধার লাভলু মিয়া, বরিশাল রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার, সিরাজগঞ্জের আব্দুল করিম, রাজশাহীর আলফাজ, রংপুরের শাহাদত, ঢাকার শ্যমপুর-কদমতলির মোহাম্মদ জালাল, গেন্ডারিয়ার সুমন, ডেমরার তানভির নাঈম, বাবু হাসান প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছাড়া রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে একদিকে এই পেশায় নিয়োজিত প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে অন্যদিকে অপ্রশস্ত সড়কগুলিতে শ্রমজীবী মানুষ, রোগী কিংবা পণ্য পরিবহন হয়ে পড়বে দুরূহ ও ব্যয়বহুল। তাছাড়া জলবায়ু দূষণ রোধ করে পরিবেশের সুরক্ষার জন্য বর্তমান বিশ্বে জিবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি ব্যাবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিস্কারের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ তাদের জীবনকে সহজ করবে এটাই মানব সমাজের পরিবর্তেনর সাধারণ নিয়ম। সরকারের কাজ পরিবর্তনগুলির সীমাবদ্ধতাসমূহ দূর করে তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার চেষ্টা করা, নতুন পরিবর্তনকে বন্ধ করা নয়। সেই নিয়মের ধারাবাহিকতায় হাতেটানা রিকশা, প্যাডেল রিকশায় রূপান্তিরিত হয়েছে। আজ তা ব্যাটারিযুক্ত হয়ে যান্ত্রিকায়নে পরিণত হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইকের কাঠামোগত কোন দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত ও দূর করে লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের নি¤œবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কোন সুরক্ষা না দিয়ে অর্থাৎ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইককে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ধনী কর্পোরেট পুঁজির ব্যবসার স্বার্থে ইলেকট্রিক মোটরযানের লাইসেন্স প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা প্রযুক্তির সুবিধা থেকে শ্রমজীবী মানুষদের বঞ্চিত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে গণ্য করা হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রিকশা চালকরা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর সরকারের রাজস্ব আয়ে কী ভূমিকা রাখছে, জলবায়ু ও দুষণ রোধে কী ভূমিকা রাখছে, নি¤œ মধ্যবিত্ত মানুষের চলাচলে কতখানি সহযোগিতা করছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম চালু রাখতে কতটুকু ভূমিকা রাখছে তা পূর্বে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আমরা বহুবার তুলে ধরেছি। তারপরও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইককে বৈধতা না দেয়া বা উচ্ছেদ প্রচেষ্টা দুরভিসন্ধিপূর্ণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বলেই চিহ্নিত হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এই প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই না যে, পুলিশ-স্থানীয় স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন চক্র, সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির সুযোগ অব্যাহত রাখতে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইককে নীতিমালার বাইরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে কিনা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিংবা ইজিবাইকের ব্যাটারি, যন্ত্রাংশ আমদানি-বিক্রয় নিষিদ্ধ না হলেও চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর অসৎ সদস্য আর স্থানীয় স্বার্থান্বেষী ও সন্ত্রাসীচক্র নিরীহ রিকশাচালকদের কাছ থেকে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা, বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নেতৃবৃন্দ এই অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিরীহ রিকশা চালকদের জিম্মি করে রাখার চক্রান্ত করা হলে রিকশা চালকেরা সারাদেশে ভাত আর বিকল্প কাজের দাবিতে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রিকশা-ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ বিগত কয়েক বছর যাবত ৪ দফা দাবিতে যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল তা এখন থেকে ৫ দফার আন্দোলনে পরিণত হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যেকোন পরিস্থিতিতে নিম্নোক্ত ৫ দফা বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ৫ দফা-
ক) সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধে সরকারের অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কর। ৫০ লাখ মানুষের আত্মকর্মসংস্থান ও আড়াই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা কর।
খ) ব্যাটারি রিকশাকে আধুনিক ও নিরাপদ করার স্বার্থে প্রকৌশলী পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বি.আর.টি.এ কর্তৃপক্ষ ও অভিজ্ঞ মেকানিক সমন্বয়ে কমিটি গঠন কর। রিকশার নকশা, কাঠামো, সিট ও ব্রেক এর দুর্বলতা দূর কর। নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান কর।
গ) বিকল্প ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছাড়া রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিকাইক উচ্ছেদ করা চলবে না।
ঘ) প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন ও সার্ভিস রোড নির্মাণ কর। নির্যাতন হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ কর।
ঙ) ইলেকট্রিক মোটরযানের লাইসেন্স প্রদানের নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইককে যুক্ত কর।

সমাবেশ থেকে ঘোষিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়-

১. ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ।
২. ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল নীতিমালায় ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে অন্তর্ভুক্ত করা ও লাইসেন্স প্রদানসহ ৫ দফা দাবিতে ১-১৫ অক্টোবর সারাদেশে প্রচার পক্ষ পালন। ১১ অক্টোবর সারাদেশে ডিসি অফিসের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মšণনালয় এবং প্রত্যেক জেলায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি পেশ।
৩. ১৫ থেকে ৩০ অক্টোবর ৪ দফা দাবিতে বিভাগীয় শহরে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক-গ্যারেজ মালিক-মেকানিক, শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
৪. ১ থেকে ২০ নভেম্বরে বিভাগীয় শহরসহ জেলায় জেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক, ট্রেড ইউনিয়ন, পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, মেকানিক, চালক-মালিক-যাত্রী প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয় সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকদের স্বার্থে আধুনিকায়ন চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
৫. ২০ থেকে ৩০ নভেম্বরে প্রত্যেক জেলা ও অঞ্চলে ৫ দফা দাবিতে সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সরকার ব্যাটারিচালিত যানবাহন নীতিমালায় ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে অন্তর্ভুক্ত করা ও লাইসেন্স প্রদানসহ সংগ্রাম পরিষদ ঘোষিত ৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করলে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক আধুনিকায়ন করে লাইসেন্স প্রদান করুন
রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে নেতৃবৃন্দ

1111111রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে ১১ সেপ্টেম্বর ৮/৪-এ সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে ‘ব্যাটারি চালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকদের স্বার্থে আধুনিকায়ন চাই’-শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপনের সভাপতিত্বে সদস্যসচিব প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমনের পরিচালনায় বৈঠকে আলোচনা করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বাসদ নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি, কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, স্কপের যুগ্মসমন্বয়ক ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, অ্যাকসিডেন্টাল রিসার্স ইনস্টিটিউট বুয়েটের সহকারি অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ, ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষক সেলিনা আজিজ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নাদিম, ক্ষুদ্র রিকশা পার্টস ব্যবসায়ী ও মেকানিক মো. ইকবাল, ক্ষুদ্র গ্যারেজ মালিক মো. সুমন, ব্যাটারি রিকশা মেকানিক মো. হাশেম, আলমগীর হোসেন, ব্যাটারি রিকশা চালক শওকত হোসেন, মো. রহমতউল্লাহ, জালাল হোসেন।
আলোচকবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারি প্রবল সংক্রমণকালে জুন মাসে সরকার ইঞ্জিন লাগিয়ে চালানো হচ্ছেÑব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছে। কারণ এই বাহনগুলো নাকি দুর্ঘটনাপ্রবণ, এই রিকশার সামনের চাকায় ব্রেক আছে পেছনের চাকায় নেই তাই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে ইত্যাদি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এটাই যদি সমস্যার মূল কারণ হয়ে থাকে, তা হলে সরকারের পক্ষ থেকে কী বলতে পারবে দেশে কোন গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে না? তা তো বলা যাবে না! নৌপথ, আকাশপথ, স্থলপথ কোন পথ ও বাহন দুর্ঘটনা মুক্ত নয়। আর যে কোন পরিবহনেরই নকশা পরিবর্তণ করে আরও আধুনিকায়নের সুযোগ থাকে। ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান এগুলোও আধুনিকায়নের সুযোগ আছে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। মাথা ব্যাথায় মাথা কাটা-এটা কোন যুক্তির কথা নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, ১৩ হাজার মোটরচালিত রিকশা, ভ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। এই ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক মালিক এনজিও থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান ও প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা লোন করে ইজিবাইক কিনেছেন। এখন এটা ধ্বংস করা হলে এনজিওর ঋণের টাকা ফেরত দেবে কে? কীভাবে?
নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে এবং এটা সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন। এই বাহন শুধু যাত্রী বহন করে না, পণ্য পরিবহন, জরুরি রোগী পরিবহন করে। স্বল্প দূরত্বের জন্য ৯০ ভাগ সাধারণ মানুষের এটাই একমাত্র বাহন। দেশের সব সড়কে তো বাস চলে না। সেখানে বিকল্প বাহন কী? দেশের সর্বত্র এ বাহন ব্যবহৃত হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎচালিত বলে এই সব বাহন শব্দ দূষণ কিংবা পরিবেশ দূষণ করে না। ছোট ছোট গলিপথে চলাচল করতে পারে এবং ভাড়া কম বলে এই সব বাহন দ্রুত সারা দেশে প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধ করে দিলে ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক চালক বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়বে ও তাদের উপর নির্ভরশীল প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বা তাদের পরিবার পরিজন জীবন-জীবিকা হুমকির মধ্যে পড়বে।
সরকার প্রধান বলছেন, নিজেরা কাজ খুঁজে নেন। দেশের কোথায় কী কাজ আছে? সরকার এদের আর্থিক সহযোগিতা করেনি তারা নিজেরা কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করে সরকারকে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট দিচ্ছেন। সেই রিকশা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়ে বাস্তবে সরকার তাদের মাথায় বাড়ি দিচ্ছেন।
গোলটেবিলে বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও বছরে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি আয়ের জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কাঠামোগত দুর্বলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে। এই যানবাহনকে নিরাপদ করে লাইসেন্স প্রদানসহ ৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


  •  
  •  
  •  

Translate »