নীতিমালা প্রনয়ণ ও লাইসেন্স প্রদান করে রিকশাসহ ব্যাটারী চালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন কর

  •  
  •  
  •  

নীতিমালা প্রনয়ণ ও লাইসেন্স প্রদান করে রিকশাসহ ব্যাটারী চালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন কর
ব্যাটারীচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজি বাইক উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র বন্ধ কর
Rikshaw-250921-2ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয় আধুনিকায়ন করে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান, প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্প গতির এবং জনগণের সীমিত গতির যানবাহন চলাচলের স্বার্থে পৃথক লেন, সার্ভিস রোড নির্মাণ করাসহ ৪ দফা দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা – ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ এর আহবানে ২৫ সেপ্টেম্বর, সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রিকশা শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রিকশা, ব্যাটারি রিকশা – ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক খালেকুজ্জামান লিপন এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হাজার-হাজার রিকশা শ্রমিকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর বশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ-হেল-কাফী-রতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বরিশালের ডা: মণিষা চক্রবর্তী, খুলনার জনার্দন দত্ত নান্টু ও হারুনুর রশিদ, ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক নেতা মোশারফ হোসেন, সিলেটের আবুজাফর, তাজুল ইসলাম ও সাঈদ আহমেদ, কুড়িগ্রামের আফজাল হোসেন বুলু ও মোসলেহ উদ্দিন, ফেনীর মালেক মনসুর ও মোহাম্মদ হোসেন, কিশোরগঞ্জের হানিফ মিয়া, দিনাজপুরের কিবরিয়া হোসেন, বগুড়ার মাসুদ পারভেজ, কুষ্টিয়ার আশ্রাফুল ইসলাম, কুমিল্লার নাসিরুল ইসলাম মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের মেহেদি হাসান, গাজীপুরের অ্যাড. আব্দুল কাইয়ুঁম, চাঁদপুরের আবু তাহের, লক্ষিপুরের লক্ষণ অধিকারী হৃদয়, নাটোরের কোরবান আলী, গাইবান্ধার লাভলু মিয়া, বরিশাল রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার, সিরাজগঞ্জের আব্দুল করিম, রাজশাহীর আলফাজ, রংপুরের শাহাদত, ঢাকার শ্যমপুর-কদমতলির মোহাম্মদ জালাল, গেন্ডারিয়ার সুমন, ডেমরার তানভির নাঈম, বাবু হাসান প্রমুখ।
Rikshaw-250921-1সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছাড়া রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে একদিকে এই পেশায় নিয়োজিত প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে অন্যদিকে অপ্রশস্ত সড়কগুলিতে শ্রমজীবী মানুষ, রোগী কিংবা পণ্য পরিবহন হয়ে পড়বে দুরহ ও ব্যায়বহুল। তাছাড়া জলবায়ু দূষণ রোধ করে পরিবেশের সুরক্ষার জন্য বর্তমান বিশে^ জিবাশ্ম জ¦ালানীর পরিবর্তে নবায়ণযোগ্য জ্বালানী ব্যাবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিস্কারের সুবিধা কে কাজে লাগিয়ে মানুষ তাদের জীবনকে সহজ করবে এটাই মানব সমাজের পরিবর্তেনর সাধারণ নিয়ম। সরকারের কাজ পরিবর্তনগুলির সীমাবদ্ধতাসমূহ দুর করে তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার চেষ্টা করা, নতুন পরিবর্তন কে বন্ধ করা নয়। সেই নিয়মের ধারাবাহিকতায় হাতেটানা রিকশা, প্যাডেল রিকশায় রুপান্তিরিত হয়েছে। আজ তা ব্যাটারিযুক্ত হয়ে যান্ত্রিকযানে পরিণত হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইকের কাঠামোগত কোন দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত ও দুর করে লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা।
Rikshaw-250921-3নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের নি¤œবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কোন সুরক্ষা না দিয়ে অর্থাৎ ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইককে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ধনি-কর্পোরেট পুঁজির ব্যবসার স্বার্থে ইলেকট্রিক মোটরযানের লাইসেন্স প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা প্রযুক্তির সুবিধা থেকে শ্রমজীবী মানুষদের বঞ্চিত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে গণ্য করা হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, রিকশা চালকেরা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর সরকারের রাজস্ব আয়ে কি ভূমিকা রাখছে, জলবায়ু ও দুষণ রোধে কি ভূমিকা রাখছে, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের চলাচলে কতখানি সহযোগিতা করছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম চালু রাখতে কতটুকু ভুমিকা রাখছে তা পূর্বে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আমরা বহুবার তুলে ধরেছি। তারপরও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইককে বৈধতা না দেয়া বা উচ্ছেদ প্রচেষ্টা দুরভিসন্ধিপূর্ণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বলেই চিহ্নিত হবে।
Rikshaw-250921-4নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এই প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাইনা যে পুলিশ, স্থানীয় স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন চক্র আর সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজীর সুযোগ অব্যাহত রাখতে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইককে নীতিমালার বাইরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে কিনা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিংবা ইজিবাইকের ব্যাটারি, যন্ত্রাংশ আমদানি-বিক্রয় নিষিদ্ধ না হলেও চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনির অসৎ সদস্য আর স্থানীয় স্বার্থান্বেসি ও সন্ত্রাসীচক্র নিরিহ রিকশাচালকদের কাছ থেকে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা, বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নেতৃবৃন্দ এই অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নিরিহ রিকশা চালকদের জিম্মি করে রাখার চক্রান্ত করা হলে রিকশা চালকেরা সারাদেশে ভাত আর বিকল্প কাজের দাবিতে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রিকশা-ব্যাটারী রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ বিগত কয়েক বছর যাবত ৪ দফা দাবিতে যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল তা আজ থেকে ৫ দফার আন্দোলনে পরিনত হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যেকোন পরিস্থিতিতে নিম্নোক্ত ৫ দফা বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ৫ দফা-
ক) সারাদেশে ব্যাটারী রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধে সরকারের অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কর। ৫০ লাখ মানুসের আত্মকর্মসংস্থান ও আড়াই কোটি মানুষের জীবন-ঝীবিকা রক্ষা কর।
খ) ব্যাটারী রিকশাকে আধুনিক ও নিরাপদ করার স্বার্থে প্রকৌশলী পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বি.আর.টি.এ কর্তৃপক্ষ ও অভিজ্ঞ মেকানিক সমন্বয়ে কমিটি গঠন কর। রিকশার নকশা, কাঠামো, সিট ও ব্রেক এর দুর্বলতা দুর কর। নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারীচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান কর।
গ) বিকল্প ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছাড়া রিকশা, ব্যাটারীচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিকাইক উচ্ছেদ করা চলবে না।
ঘ) প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন ও সার্ভিস রোড নির্মাণ কর। নির্যাতন হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ কর।
ঙ) ইলেকট্রিক মোটরযানের লাইসেন্স প্রদানের ণিিতমালায় ব্যাটারীচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইককে যুক্ত কর।
সমাবেশ থেকে নিম্নলিখিত কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়-
১) ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল নীতিমালা প্রনয়ণে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে অন্তর্ভূক্ত করা ও লাইসেন্স প্রদানসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রনালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ।
২) ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল নীতিমালায় ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে অন্তর্ভূক্ত করা ও লাইসেন্স প্রদানসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ১-১৫ অক্টোবর সারাদেশে প্রচার পক্ষ পালন । আগামী ১১ অক্টোবর সারাদেশে ডিসি অফিসের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় এবং প্রত্যেক জেলায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি পেশ।
৩) ১৫ থেকে ৩০ অক্টোবর ৪ দফা দাবিতে বিভাগীয় শহরে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক-গ্যারেজ মালিক-মেকানিক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
৪) আগামী (১ -২০) নভেম্বরে বিভাগীয় শহরসহ জেলায় জেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক, ট্রেড ইউনিয়ন, পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, মেকানিক, চালক-মালিক-যাত্রী প্রতিনিধিদের নিয়ে “ ব্যাটারি চালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয় সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকদের স্বার্থে আধুনিকায়ন চাই‘ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক” অনুষ্ঠিত হবে।
৫) আগামী (২০-৩০) নভেম্বরে প্রত্যেক জেলা ও অঞ্চলে ৪ দফা দাবিতে সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে সরকার ব্যাটারিচালিত যানবাহন নীতিমালায় ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে অন্তর্ভূক্ত করা ও লাইসেন্স প্রদানসহ সংগ্রাম পরিষদ ঘোষিত ৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করলে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  •  
  •  
  •  

Translate »