প্রতি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র চালুসহ কৃষক-ক্ষেতমজুরদের ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে

সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের উদ্যোগে প্রতি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র চালু করে খোদ কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ধান ক্রয়সহ কৃষক-ক্ষেতমজুরদের ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে

SPF-23 December 2019-1সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এর উদ্যোগে আজ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সারাদেশে প্রতি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে আমন ধান ক্রয়; বর্গাচাষীদের কৃষি কার্ড প্রদান; ধান ক্রয়ে দুর্নীতি, দলীয়করণ বন্ধ, উৎপাদিত ফসলের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সরকারি উদ্যোগে ক্রয় করা, প্রতি ইউনিয়নে খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ১ কোটি টাকা করে মোট ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা, গ্রামীণ শ্রমজীবী ক্ষেমজুর, দিনমজুর, ভূমিহীন, গরীব চাষীদের জন্য আর্মি রেটে গ্রামীণ রেশনিং চালু করা এবং গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র শীতার্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-মানববন্ধন, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষক নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতা নিখিল দাস, বেলায়েত হোসেন, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ নগর নেতা জুলফিকার আলী, বিজ্ঞান আন্দোল মঞ্চের সমন্বয়কারী ইমরান হাবিব রুমন, ছাত্রনেতা আল কাদেরী জয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে তোপখানা রোড হয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয় এবং নিখিল দাস, জুলফিকার আলী, বেলায়েত হোসেন, প্রদীপ কুমারের নেতৃত্বে একটি টিম ঢাকা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ কৃষি, কৃষক-ক্ষেতমজুর ও দেশ বাঁচাতে নিন্মোক্ত ৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানান। ১) প্রতি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরকার নির্ধারিত দামে খোদ কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদিত আমন ধানের ৩০ শতাংশ ক্রয় করতে হবে। ২) বর্গাচাষীদের কৃষি কার্ড প্রদান করতে হবে। ধান ক্রয়ে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। ৩) প্রতি ইউনিয়নে ১ টি করে খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ১ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করতে হবে। ৪) গ্রামীণ শ্রমজীবী ক্ষেতমজুর-ভূমিহীন, গরীব চাষীদের জন্য আর্মি রেটে গ্রামীণ রেশনিং চালু করতে হবে। ৫) গ্রামের দরিদ্র শীতার্ত জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র প্রদান করতে হবে।

সূত্র:                                                                                                                                    তারিখ: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ইং স্মারকলিপি

বরাবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলেনবাড়ী, তেজগাঁও, ঢাকা।

মাধ্যম : জেলা প্রশাসক/ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ……………………………. জেলা/ উপজেলা।

বিষয়ঃ প্রতি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র চালু করে সরকার নির্ধারিত দামে খোদ কৃষকের কাছ থেকে মোট উৎপাদিত আমন ধানের ৩০ শতাংশ ক্রয়; বর্গা চাষীদের কৃষি কার্ড প্রদান; ধান ক্রয়ে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলীয়করণ বন্ধ; খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য প্রতি ইউনিয়নে এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ প্রদান; গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য আর্মি রেটে রেশন এবং গ্রামীণ জনপদের শীতার্তদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র দেয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ।

মহোদয়, শুভেচ্ছা নিবেন। বাংলাদেশের কৃষক আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত। সার,বীজ, কীটনাশক, সেচ খরচসহ উৎপাদনের সকল উপকরণের দাম ক্রমাগত বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অথচ কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের লাভজনক দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে এক মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয় ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। সরকার ২৬ টাকা কেজি অর্থাৎ ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয়ের ঘোষণা দিলেও বাজারে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। গত বোরো মৌসুমেও কৃষক ধানের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এক শ্রেণীর মুনাফালোভী চাতাল মালিক ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে কৃষক ফসলের লাভজনক দাম পায়নি। চলতি আমন মৌসুমেও কৃষক ধানের লাভজনক দাম পাচ্ছেনা। এবারে ৫৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন আমন ধান উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু সরকার মাত্র ৬ লক্ষ টন আমন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকের নিজেদের খাবারের জন্য ১ কোটি টন লাগলেও বাকী ১ কোটি ৪০ লক্ষ টন ধান যে বাজারে বিক্রি করবে সেখানে সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে দাম মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ টাক মণ। এতে কৃষকের লোকসান হবে কমপক্ষে ১২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া যে ৬ লক্ষ টন ধান সরকার কিনবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সেখানেও চলছে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ। সরকার কৃষি সহায়তার জন্য কৃষকদের কৃষি কার্ড দিলেও, বর্গাচাষীদেরকে কৃষি কার্ড না দেয়ায় ভর্তুকীমূল্যে সার, বীজ পাচ্ছে না এবং সরকার নির্ধারিত দামে তারা কোন ফসলই বিক্রি করতে না পেরে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা একই সাথে লক্ষ্য করছি যে উৎপাদিত ফসলের ৩ শতাংশও সরকার কিনছে না। এতে একদিকে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর যেমন সমস্যা রয়েছে তেমনি রয়েছে খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতার সংকট। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৫০ লক্ষ টনের বেশি খাদ্য শস্য সরকার কিনছে কৃষকের কাছ থেকে। চলতি অর্থ বছরে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকৃতির বাজেট হলেও পর্যাপ্ত খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। এবং যে গুদামগুলি রয়েছে সেগুলিও সংস্কার-মেরামতের অভাবে অনেকগুলি ব্যবহার অনুপোযোগি হয়ে আছে। একদিকে বিপুল সংখ্যক কৃষক কিনতে এবং বেচতে ঠকছে। অন্যদিকে ক্ষেতমজুর-দিনমজুর-ভূমিহীন গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের সারা বছরের কাজ ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নাই। বর্তমানে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণ শীতের প্রকোপে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ঠা-াজনিত রোগ বালাইও বাড়ছে। এমতাবস্থায় আমাদের দাবি :- ১) প্রতি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরকার নির্ধারিত দামে খোদ কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদিত আমন ধানের ৩০ শতাংশ ক্রয় করতে হবে। ২) বর্গাচাষীদের কৃষি কার্ড প্রদান করতে হবে। ধান ক্রয়ে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। ৩) প্রতি ইউনিয়নে ১ টি করে খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ১ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করতে হবে। ৪) গ্রামীণ শ্রমজীবী ক্ষেতমজুর-ভূমিহীন, গরীব চাষীদের জন্য আর্মি রেটে গ্রামীণ রেশনিং চালু করতে হবে। ৫) গ্রামের দরিদ্র শীতার্ত জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র প্রদান করতে হবে।

নিবেদক …………………………….. সভাপতি/ আহ্বায়ক সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট …………………………. জেলা/ উপজেলা শাখা। মোবাইল : ……………………………………………

Translate »