ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দাঁড়ান – খালেকুজ্জামান

  •  
  •  
  •  

রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, দমন, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দাঁড়ান
——————————— খালেকুজ্জামান
SPB-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ২৭ মার্চ ২০২১ এক বিবৃতিতে গত কয়েকদিনে ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, জয়পুরহাট, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিরোধীমত দমনে পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা-নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সকল মুক্তিযোদ্ধা, দেশবাসীকে নিয়ে আনন্দঘন উৎসব করার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার সকল কৃতিত্ব দলীয়ভাবে আত্মসাৎ করার মানসিকতায় ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সরকার উৎসবকে চূড়ান্তভাবে দলীয়করণ করেছে। সকল মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন গণতান্ত্রিক মুল্যবোধকে উপহাস করার সামিল।
তিনি বলেন, উপনিবেশিক শাসন, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ৩০ লাখ শহীদের জীবনদানের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছিলাম তার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে কোন সাম্প্রদায়িক দল ও নেতাকে আমন্ত্রণ স্বাধীনতার চেতনাকে অসম্মানিত করা। একদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তি আর একদেশের সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরে শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা করার বিষময় ফলও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে ।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি ভারতের সাম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট পুঁজির নির্ভরযোগ্য পাহাড়াদার উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আরএসএস এর প্রচারক নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আগমনের বিরোধীতা ও প্রতিবাদ করেছে কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ভিত্তিতে। ফলে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থি।
আর বাংলাদেশের ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী মোদির আগমনের বিরোধীতা করছে উগ্র সাম্প্রদায়িক ধ্যান-ধারনা থেকে। ফলে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি আরএসএস এবং বাংলাদেশের হেফাজতসহ ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী একই মুদ্রার এপিট ওপিট মাত্র। আমরা উভয় সাম্প্রদায়িক শক্তির অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রগতিশীল গণতন্ত্রমনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা আগেই সাম্প্রদায়িক মোদিকে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। এতে করে মোদিকে আমন্ত্রণ ও তার আগমনে বাংলাদেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উন্মাদনাকে উসকে দিল সরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে যখন গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না তখন নানা অগণতান্ত্রিক ও কুপমণ্ডূক মৌলবাদী চিন্তার প্রসার ঘটে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জনগণের উৎসব পালনে বাঁধা দিয়ে বিরোধী মত দমন, নিপীড়ন, নির্যাতন, হামলা, গ্রেপ্তার ও হত্যা করে জনমতকে তোয়াক্কা না করে কথিত মেহমানদের নিরাপত্তার নামে বস্তুত জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যা সরকারের অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আচরণের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে সরকারের অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারী, ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে এবং সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকল বাম-প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

  •  
  •  
  •  

Translate »