বরিশালে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কর্মী ও গৃহবধূ মোর্শেদা আক্তার সাথীর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত কর

IMG-5বরিশালে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কর্মী ও গৃহবধূ মোর্শেদা আক্তার সাথীকে তার ননদসহ কয়েকজন মিলে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২। তিনি গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ১ অক্টোবর ২০২২ বিকেল ৪.৩০ টায় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগর শাখার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা নগর শাখার সংগঠক লাবনী আক্তার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাসদ ঢাকা নগর শাখার সদস্য সচিব কমরেড জুলফিকার আলী, বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তা বিশ^াস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সদস্য অদিতি ইসলাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগরের সংগঠক ও কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা।

IMG-9সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মোর্শেদা আক্তার সাথী দীর্ঘদিন যাবত তার স্বামীসহ শ^শুড়বাড়ির লোকেদের দ্বারা নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন যার নম্বর ৩৩৯/২২। এই মামলা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার ননদ লুনাসহ ৩ জন পরিকল্পিতভাবে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই নৃশংস অগ্নিকান্ডে মোর্শেদার মুখমন্ডল, বুক, পেট, শ^াসনালীসহ শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে আসামীরাই তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে আসে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তখনি ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে পাঠিয়ে দেয়। তিনি এখানে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। সেই অবস্থায়ই তিনি গতকাল মৃত্যু বরণ করেন। তার হত্যা চেষ্টার মামলা করা হলে আসামীদের দিক থেকে এটাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলা হয়। পুলিশ সেকারণে প্রথমে মামলাও নিতে চায় নি।’

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরে নারীর জীবন যে কি পরিমাণ অনিরাপদ তা মোর্শেদা আক্তারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমানিত হল। যারা মুখ বুজে সব সহ্য করে তাদের জন্য তো বটেই যারা নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করতে চায় তাদের জন্যও। মোর্শেদা আক্তার সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলার কর্মী ছিলেন। তিনি নারী আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের জাতীয়, রাজনৈতিক নানা সংকটে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তবুও তিনি প্রতিনিয়ত পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। এটার প্রতিবাদ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে জীবন দিতে হল।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘সমাজে, আইনে, পরিবারে সর্বত্র নারীরা বৈষম্যের শিকার। প্রতিনিয়ত তাদের অধিকার ও মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে নারী প্রতিবাদ করলে সেটা আরো বড় অন্যায় বলে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রও নারীর অধিকার রক্ষায় কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অধিকাংশ নারী নির্যাতনের ঘটনার কোন উল্লেখযোগ্য বিচার ও শাস্তি হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা প্রশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে। ফলাফল হিসেবে নারী নির্যাতন আরও ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মোর্শেদা আক্তার এর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Translate »