শোক সংবাদ

  •  
  •  
  •  

কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর বাসদ এর শোক প্রকাশ

MH Chyবাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ৭ জুলাই ২০২১ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, প্রবীন বামপন্থি নেতা কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী আমৃত্যু দেশের শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন। তাঁর চিন্তার সাথে ভিন্নমত থাকলেও দেশের শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সংগ্রামে তাঁর অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।
উল্লেখ্য, কমরেড মুুবিনুল হায়দার চৌধুরী উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ইউরেনাল ট্র্যাকে ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। গত মার্চ মাসে গোসল করার সময় বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত পান এবং মেরুদ-ের হাড় ভেঙে তাঁর হাত-পা অবস হয়ে যায়। তারপর থেকেই গত ৩/৪ মাস ধরে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। সর্বশেষ নিউমোনিয়া প্রকট হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৫ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শ্রমজীবী মানুষ একজন নিষ্ঠাবান বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাকে হারালো।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান তাঁর দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও তাঁর সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী লাল সালাম।

কমরেড সাগরের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

Abdullah Sarahir-pপ্রগতিশীল সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী ফোরামের আহ্বায়ক, বাসদ নেতা কমরেড আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার সাগরের মৃত্যুতে বাসদ মোহাম্মদপুর থানা শাখার উদ্যোগে ২৮ আগস্ট ’২১ লালমাটিয়ায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ থানা শাখার নেতা শাহীন লস্করের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি সম্পাদক কমরেড আহসান হাবিব লাভলু, বাসদ ঢাকা মহানগরের সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন, সিপিবি ও কৃষক সমিতি নেতা প্রকৌশলী নিমাই গাঙ্গুলি, প্রগতিশীল কৃষিবিদ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ রফিকুল বারী মুক্তা, থানা বাসদ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ সাগরের সহধর্মিনী মর্জিনা বেগম বেবী, ছোট ভাই আব্দুল্লাহ জাফর সমীর, ভাইয়ের সহধর্মিণী রোমানা শফি, সেইফটি এন্ড রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সেকান্দার আলী মিনা, শ্রমিক ফ্রন্ট থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবু হাসান, মহিলা ফোরামের থানা সংগঠক শাহিদা বেগম, সভা পরিচালনা করেন অ্যাড. ফারুখ হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাসদ থানা শাখার সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন, সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম রাসেল, ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক আনারুল ইসলাম।
আলোচকবৃন্দ বলেন, কমরেড সাগর ১৯৭৪ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে বাম রাজনীতিতে কিশোর বয়সেই যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের দমন পীড়নের শিকার হন তিনি। শাসক শ্রেণির দমন পীড়নের কারণে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বহুদিন।
বয়সের কারণে তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না, কিন্তু তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অজানা বীরত্বপূর্ণ তথ্য-কাহিনি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন, যা বিটিভিতে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও আকাক্সক্ষার শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমৃত্যু নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
তিনি শাসকদের তোষামুদি ও হলুদ সাংবাদিকতার বিপরীতে প্রগতিশীল, স্বাধীন ‘সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী ফোরাম’ গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সাংবাদিকসহ গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও আজীবন লড়াই করে গেছেন। আত্মপ্রতিষ্ঠার সহজপথে না গিয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করেছেন।
আলোচকবৃন্দ আরও বলেন, কমরেড সাগর বর্তমান চরম কর্তৃত্ববাদী, স্বেচ্ছাচারি একদলীয় শাসন ও নিপীড়নে বিরুদ্ধে রাজপথে ও সামাজিক গণমাধ্যমেও সোচ্চার ছিলেন। শাকরা আজ মানুষকে কথা বলতে দিতে চায় না, বাক্স্বাধীনতা হরণ কারতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কালো আইন জারি করেছে। মুক্তচিন্তার মানুষকে কারাগারে আটকে রাখছে। জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়মূলক শাসনব্যবস্থা যা জনগণের বুকের ওপর জগদ্দল হয়ে চেপে বসে আছে, তা উচ্ছেদ করে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শক্তিশালী ও সফল করার মাধ্যমেই কমরেড সাগরের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে আলোচকবৃন্দ মনে করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন ম্যাসিভ হার্ট এটাকে ৬১ বৎসর বয়সে আফতাব নগরস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।
কমরেড আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার সাগর, লাল সালাম।

কথাসাহিত্যিক বশির আল হেলাল এর মৃত্যুতে বাসদ এর শোক

Bashir Al-Helal-1বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ৩১ আগস্ট ২০২১ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাংলা একাডেমির ইতিহাস বইয়ের লেখক বশির আল হেলালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, বশির আল হেলাল দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন এবং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। বশির আল হেলালের মৃত্যুতে আমরা বাংলা সাহিত্যের একজন অভিভাবককে হারালাম।

কমরেড আখলাক রেজা’র স্মরণে বাসদের শোকসভা অনুষ্ঠিত

Aklakh Rezaসমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা কমরেড আখলাক রেজা’র মৃত্যুতে বাসদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে ৬ আগস্ট বাসদ জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জুনায়েদুল ইসলামের পরিচালনায় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্ল­বী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম শাহজাহান, সিপিবি জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সিরাজুল ইসলাম ছাত্তার, বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য সাজেদুল ইসলাম সেলিম, সদস্য আসাদ আরভিং, শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক মাসুদ আহমেদ, সদস্যসচিব আবদুর রহমান রুবেল, আবদুল হাই, লুৎফর রহমান (পাকির আলী), শফীকুর রহমান রঞ্জন, ইকবাল হোসেন ভুট্টো, বেনু চন্দ্র ঘোষ, মোস্তাকিম, ছাত্রনেতা প্রীতম শুভ, খালেদা আক্তার প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড আখলাক কিশোরগঞ্জ জেলার বাসদকে গড়ে তোলা ও জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সচেষ্ট ছিলেন। কিশোরগঞ্জ কালিয়াচাপড়া চিনিকলে চাকরি করার সুবাদে সেখানে শ্রমিক ফ্রন্ট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে কর্তৃপক্ষ চিনিকল লে-অফ ঘোষণা করে। তখন বন্ধ চিনিকল খুলে দেয়ার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে পাবনার চিনিকলে চাকরি নেন এবং সেখানে পার্টির কাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
নেতৃবৃন্দ কমরেড আখলাক রেজার জীবন ও সংগ্রামের উপর আলোচনা করেন এবং তার সংগ্রামের পথ সমাজতন্ত্রের লাল ঝাণ্ডা উর্ধ্বে তুলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, তিনি ২ আগস্ট ’২১ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

কমরেড বাসবী বড়ুয়া লাল সালাম

Bashubi Boruaসমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক বাসবী বড়ুয়ার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, কমরেড বাসবী বড়ুয়া ছাত্র জীবনে ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের একজন সংগঠক। পরবর্তীতে বাসদ ও সমাজতন্ত্রের একনিষ্ঠ অনুরাগী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পুঁজিবাদী বৈষম্যমূলক সমাজের আবসান এবং মানুষের শোষণমুক্তির আকাঙ্খাকে ধারণ করে গিয়েছেন।
শিক্ষাজীবন শেষ তিনি আইন ও সালিশ কেন্দ্রে এবং স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন। পরবর্তীতে দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি বা জেএনইউ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আজীবন সমাজের শোষণ বৈষম্যের অবসানে সাধ্যমতো তার ভূমিকা পালন করেছেন। বৈষম্যের কারণ বুঝার চেষ্টা করেছেন, সেটা পরিবর্তনের নিয়ম জানার জন্য সমাজব্যবস্থা, রাজনীতি, ইতিহাস, সাহিত্য জানায় তার আগ্রহ ছিল তীব্র। শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবনে তিনি বাসদের রাজনৈতিক, আদর্শগত সংগ্রামে একজন একনিষ্ঠ সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২৩ জুলাই ’২১ দিবাগত রাত ৩টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার শোকাভিভূত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। কমরেড বাসবী বড়ুয়া লাল সালাম।


  •  
  •  
  •  

Translate »