সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫৪ শ্রমিকের মৃত্যু-একি দুর্ঘটনা নাকি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড-বাম জোট

  •  
  •  
  •  

002নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে শ্রমিক নিহত হওয়াকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারখানা মালিকও কারখানা পরিদর্শককে গ্রেপ্তার ও বিচার এবং শ্রমিকের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে ১০ জুলাই ’২১ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক কমরেড মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভুঁইয়া।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রানা প্লাজা, তাজরীন, টাম্পাকোর পর আবারও মালিকের অতি মুনাফা ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার নির্মম শিকার হয়ে সেজান জুস কারখানায় ৫২ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন। সরকারি ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে কারখানা করার আইন থাকলেও ৬ তলা কারখানা ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি, ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা ছিল না, জরুরি বহিঃনির্গমণের ব্যবস্থা ছিল না। গেইট খোলা থাকার কথা থাকলেও তা বন্ধ ছিল, নিয়ম ভেঙে কেমিক্যালসহ দাহ্য পদার্থ গুদামজাত করা ছিল। ৪ তলার গেইট খোলা থাকলে অধিকাংশ শ্রমিক বাঁচতে পারতো। আর আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে ১২ বছর থেকে শুরু করে ১৭ বছর পর্যন্ত কিশোর শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ সব অনিয়ম দেখার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কল-কারখানা পরিদর্শকরা কারখানা পরিদর্শন করেনি। ফলে এটি একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড ছাড়া অন্য কিছুই নয়।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সেজান জুসের কারখানায় শ্রমিক হত্যার দায়ে সেজান জুসের মালিক এম এ হাশেম, সংশ্লিষ্ট কারখানা পরিদর্শককে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে এবং নিহত সকল শ্রমিককে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যে শ্রমিকরা নিজেদের ঘাম ঝরিয়ে, শরীরের শক্তি নিংড়ে দিয়ে মালিকের মুনাফা এনে দেয় এবং দেশে সম্পদ বৃদ্ধি করে, জাতীয় আয় বৃদ্ধি করে তারা কাঠ-কয়লার মতো পুড়ে অঙ্গার হবে তা কোনো ভাবেই মানা যায় না।
বাম গণতান্ত্রিক জোট দেশব্যাপী এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সেজান জুস কারখানায় ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যুতে বাসদ এর শোক
নিহত-আহতদের উপযুুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে-কমরেড খালেকুজ্জামান

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ৯ জুলাই ’২১ এক বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যু এবং অনেকে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তাদের পরিবার বর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
খালেকুজ্জামান বলেন, সেজান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যু ও অসংখ্য শ্রমিকের আহত হওয়ার ঘটনা বাস্তবে মালিক ও সরকারের অবহেলাজনিত এবং কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে তাজরীন, রানা প্লাজা, টাম্পাকোসহ বিভিন্ন কারখানায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় মালিকেরা এ রকম অবহেলা ও উদাসীনতা প্রদর্শন করে পার পেয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে। তিনি বলেন, এই হত্যার দায় সরকারের কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে কঠোর লকডাউনেও মুনাফালোভী মালিক ও তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী সরকার শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান না করে করাখানা চালু রেখে শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম আইনের শিশু শ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সেজান কারখানায় হতাহতের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমরিমাণ ক্ষতিপূরণ, আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও পুর্নবাসন এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকা-ের জন্য দায়ী মালিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।


  •  
  •  
  •  

Translate »