spb-logo

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদ ও রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের নিন্দা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
বিবৃতি / ১১ অক্টোবর ২০২৬
বিবৃতি / ১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চাকুরিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির সামনে মনীষীদের গ্রাফিতির মধ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬, সংগঠনের সভাপতি ছাত্রনেতা রিনা মুর্মু ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে দেশে ৩৬ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বেকার। তারা যখন চাকরির জন্য বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে তখন দেখা গেলো, গতকাল ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক মাধ্যমে ফাঁসের অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি স্থগিত ঘোষণা করা হলো। এর মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হতাশার অন্ধকারে ফেলে দেওয়া হলো। কর্মসংস্হান নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একজন শিক্ষার্থীর পড়া লেখা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র-সরকার নতুন কর্মসংস্থান তো সৃষ্টি করছেই না বরং শত শত কারখানা বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার বেকার হচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ভর্তি পরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস যে মহামারী রূপ ধারণ করেছিল, গণঅভ্যুথানের পর মানুষ আশা করেছিল প্রশ্নফাঁসের সেই মহামারী বন্ধ হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বাস্তবে নতুন বন্দোবস্তের স্লোগান দিয়ে প্রশ্নফাঁসের পুরনো ধারাই বহাল রাখা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি ও দুর্নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করার আহ্বান জানান। একইসাথে প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং জড়িতদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জ্ঞান জগতের ব্যাপ্তি ঘটিয়ে যখন কোনো মানুষ নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি করেন, তখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো জাতি, ধর্ম বা দেশের মানুষ থাকেন না, তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্ব নাগরিক। তেমনই একজন মানুষ হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যারা তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপন করেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে চায়। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে ধ্বংস করতে চায়।

নেতৃবৃন্দ এই জঘন্য কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে সরকারের কাছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বিভিন্ন মনীষীদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।



বার্তা প্রেরক:
ইনজামামুল হক
দপ্তর সম্পাদক
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটি
০১৮৭৮৫০২৭২৭

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram