spb-logo

নীতিমালা চূড়ান্তের আগে ব্যাটারি রিকশার গ্যারেজে অভিযান বন্ধের দাবি

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
battery-rickshaw
বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। ছবি: সৌজন্যে

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বান

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের আগে ব্যাটারি রিকশার গ্যারেজে অভিযান, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখার প্রতিবাদ জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটি নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্যারেজে বিদ্যমান বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বহাল রাখা এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা এসব দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা রায়হানউদ্দীন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর শাখার সহসভাপতি জালাল আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দাউদ আলী মামুন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে সংগ্রাম পরিষদ। যানবাহনের ফিটনেস, নিরাপত্তা ও প্রকৌশলগত বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অধীনে এ খাত পরিচালনার দাবি তাদের। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও বিআরটিএর সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ খাতের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের ওপর ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেওয়া পদক্ষেপে চালক ও মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে একটি নীতিমালার আওতায় আনতে সহায়ক বিধিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় নীতিমালা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চললেও বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

নেতাদের অভিযোগ, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ব্যাটারি রিকশার গ্যারেজে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে। বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদ করায় চারজন গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিককে গ্রেপ্তার ও সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

তাঁরা আরও বলেন, বিভিন্ন গ্যারেজ মালিককে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে বলা হচ্ছে। তা না হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ সিটি করপোরেশন গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রেখেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। ফলে একদিকে লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে লাইসেন্স না থাকার অজুহাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, যানবাহন ও চালকদের নিবন্ধন, লাইসেন্স এবং রুট পারমিটের ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বাধা দেওয়া ও গাড়ি জব্দ করার কার্যক্রম চলছে। এতে চালক-মালিকদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতি নিরসনে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইকের গ্যারেজের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের এলটি-ডি ৩ গ্রাহক শ্রেণি অনুযায়ী সংযোগ দেওয়ার দাবি জানায় সংগ্রাম পরিষদ। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান অথবা নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত যেসব গ্যারেজে বাণিজ্যিক, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কিংবা আবাসিক শ্রেণির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, সেগুলো বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, ব্যাটারি উৎপাদন, রিকশা নির্মাণ, গ্যারেজ, চার্জিং স্টেশন, চালক ও যাত্রীদের নিয়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন এখন একটি বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে পরিণত হয়েছে। তাই এ খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স ও রুট পারমিটের ব্যবস্থা করে সমন্বিত নীতিমালা এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে।

তাঁরা সতর্ক করে বলেন, সরকার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিলে সংগ্রাম পরিষদ সমর্থন ও সহযোগিতা করবে। তবে অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে এ খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় চালক-মালিকদের ওপর চাপানো যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচি

সংগ্রাম পরিষদ জানায়, অক্টোবরের ১৮ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে যেসব গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স নেই বা আবেদন করা হয়নি, সেগুলোর মালিকদের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি গ্যারেজের জন্য এলটি-ডি ৩ শ্রেণির বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে থানা ও অঞ্চলভিত্তিক আবেদন করা হবে।

এ ছাড়া থানা ও অঞ্চলভিত্তিক কর্মসূচি শেষে নভেম্বরের প্রথমার্ধে ডেসকো, ডিপিডিসি এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের কাছে মিছিলসহ স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram