spb-logo

এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
১১ অক্টোবর ২০২৬, কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়
১১ অক্টোবর ২০২৬, কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়

বন্দর শ্রমিকদের ১২ অক্টোবরের অনশন কর্মসূচিতে সংহতি, ৩০ অক্টোবর শহীদ মিনারের সমাবেশ সফল করার আহ্বান

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্পাদিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তি বাতিল এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ (বিডা) ভবন ঘেরাওয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।

আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬, কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কমিউনিস্ট লীগের নেতা শামীম ইমাম।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা বেলাল চৌধুরী, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, জাতীয় গণফ্রন্টের নেতা আমিরুন নুজহাত মনিষা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে দেশের স্বার্থ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, এই ইজারা চুক্তি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। বন্দর পরিচালনার নামে বিদেশি কোম্পানির হাতে কর্তৃত্ব তুলে দেওয়ার এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশবাসীকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।

নেতৃবৃন্দ আগামীকাল ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের বন্দর শ্রমিক, চট্টগ্রাম স্কপ এবং সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আহ্বানে অনুষ্ঠিতব্য অনশন কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

তাঁরা ১১ অক্টোবরের ইজারা চুক্তিসংক্রান্ত ঘটনাকে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ ভবনকে ‘কাশিম বাজার কুঠি’ আখ্যা দেন। চুক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে তাঁদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি বাধা ও হামলা আইন করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বন্দর ইজারা চুক্তি থেকে সরকার সরে না এলে বন্দর শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশ থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram