spb-logo

রুশ বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী ও বাসদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
সমাবেশ শেষে বাসদের লাল পতাকা মিছিল

রাশিয়ার মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৯ তম বার্ষিকী ও বাসদের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ এর উদ্যোগে আজ ৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিকাল ৩:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার-ফ্যাস্টুন ও কাস্তে-হাতুরী খচিত লাল পতাকা নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুলিস্তান হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, নিখল দাস ও শম্পা বসু।

রুশ বিপ্লব বার্ষিকী ও বাসদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন নেতৃবৃন্দ, জাতীয় প্রেসক্লাব
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসদের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন নেতৃবৃন্দ

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিপ্লব মানব সভ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছিল। সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্হ্য, কর্মসংস্থানের নিশ্চিয়তা বিধান করেছিল। ইতিহাস, দর্শন, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণায় এক অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছিল। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এই ব্যবস্থা ১৯৩৭ সালে ঘোষণা করেছিল, রাশিয়ায় কোন বেকার নেই, ভিক্ষুক নেই, পতিতা নেই। ১৯২৯ সালের মহামন্দায় উন্নত ধনতান্ত্রিক দেশগুলো যখন ধুঁকছিল, ঠিক তখনই কমরেড ষ্ট্যালিনের নেতৃত্বে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের দেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত। আকাশচুম্বী বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ও জান মালের নিরাপত্তাহীনতা, মব সন্ত্রাস, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন, নারী ও শিশু নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ ও মাদকের বিস্তার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প কল কারখানা দেশি-বিদেশি লুটেরাদের হাতে নাম মাত্র দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কৃষক ধান-গম, আলু-পিঁয়াজসহ ফসলের লাভজনক দাম পাচ্ছে না। সার-সেচ, বীজ-কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। বাজারে সার না পেয়ে গুদাম থেকে সার আনতে গিয়ে কৃষক মামলাসহ নানা হয়রানির শিকার। ডেঙ্গু-হামে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ড. মো: ইউনূসের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি করে আমাদের দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে গিয়েছে। বিএনপি সরকার দাসত্বের ঐ চুক্তি বাতিল না করে বাস্তবায়ন করে চলেছে। এতে দেশের শিল্প, কৃষি, ঔষধ শিল্প ধ্বংস হবে, জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছে। ইতিমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ডিজেলসহ জ্বালানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করছে সরকার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টারমিনাল বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনি ও সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার পে-স্কেল ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে অথচ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে মজুরি বোর্ড গঠনে গড়িমসি করায় সৃষ্ট তীব্র শ্রমিক আন্দোলনের চাপে তা গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের উপর সরকার দলীয় ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী ও পুলিশ ব্যাপক নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে এবং তৌফিক নামে একজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আন্দোলন ও জীবনদান ছাড়া আজ পর্যন্ত কোনদিন শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ধাপ ২০তম গ্রেড এর বেসিক বেতন ২০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া, যাতায়াত, মেডিকেলভাতাসহ মোট প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। সুতরাং শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি কোন ক্রমেই এর কম হতে পারে না। কারণ বেতন ছাড়াও সরকারি কর্মচারীরা কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন, যা বেসরকারি শ্রমিকেরা পায় না। ফলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৮ হাজার টাকা ঘোষণা করার, শ্রমিক তৌফিক হত্যার সুষ্ট বিচার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তৌফিকের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক নেতাদের মুক্তি ও ১৩ হাজার শ্রমিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সারা দুনিয়ায় আজ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসন-লুন্ঠন চলছে। এর কবল থেকে মুক্তি পেতে হলে পুঁজিবাদী দুঃশাসন, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্র সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন কেবল সমাজতন্ত্রই পারে সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবিলা করতে।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram