spb-logo

সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভে পুলিশের বাধা

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
ডেঙ্গু-হামে প্রাণহানির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশ
ডেঙ্গু-হামে প্রাণহানির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশ

ডেঙ্গু ও হামে বিপুলসংখ্যক শিশুসহ মানুষের মৃত্যু রোধে সরকারের উদাসীনতা, নির্লিপ্ততা এবং সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। ২৪ সেপ্টেম্বর ’২৬ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্যের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, সিপিবির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশীদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ডেঙ্গু ও হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মানুষের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু ও সাধারণ মানুষ অকালমৃত্যু, পরিবারের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ হওয়ার পর নানা জটিলতায় ভোগেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পর শিশুদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, চুল পড়া ও দৃষ্টি সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে। হামের প্রভাবে শিশুর ইমিউন স্মৃতিকে মুছে দিয়ে অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে অসহায় করে তোলে এবং মারাত্মক নিউরোলজিক্যাল রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিবছরই নতুন করে জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি করছে। সরকার মশকনিধন কার্যক্রমে দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এই নজিরবিহীন শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপিতে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ছয় দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

১. হামের মহামারি মোকাবিলা ও ডেঙ্গুর মহামারি প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি গঠন করে সরকার ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

২. ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি সব মানুষকে জরুরিভিত্তিতে পরিকল্পনামাফিক হামের টিকা দিতে হবে।

৩. কমিউনিটি পর্যায়ে, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে।

৫. দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং ওষুধ বিনা মূল্যে ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সারা দেশে এসব ব্যবস্থা সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram