spb-logo

রিনা মুর্মু সভাপতি, হারুন-অর-রশিদ সাধারণ সম্পাদক: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ২১তম কমিটি গঠন

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
রিনা মুর্মু সভাপতি, হারুন-অর-রশিদ সাধারণ সম্পাদক: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ২১তম কমিটি গঠন
রিনা মুর্মু কে সভাপতি ও হারুন-অর-রশিদ’কে সাধারণ সম্পাদক করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ২১ তম কমিটি গঠন
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত, শিক্ষা বাণিজ্য ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান
আজ রোজ বুধবার সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে উদ্বোধন ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত, বিকাল ৩.৩০ টায় জাতীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা, কমিটি পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এর সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাম-প্রগতিশীল রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব, প্রবীন জননেতা, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা,বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড খালেকুজ্জামান।
বিকালের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী রায়হান সরকার, শ্রীলঙ্কার সোস্যালিস্ট স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (SSU) এর ন্যাশনাল কমিটির সদস্য ডিলান আরোসা, অল নেপাল ন্যাশনাল ইনডিপেনডেন্ট স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ANNISU(Revolutionary) এর সহ-সভাপতি কৃষ্ণ বাহাদুর সোনার,
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক,রিনা মুর্মু। উভয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক, রায়হান উদ্দিন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, এদেশের ছাত্র-জনতা বারেবারে বুকের রক্ত দিয়ে অভ্যুত্থান করে কিন্তু বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন বারবার হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ সঠিক নেতৃত্ব আর আদর্শের অভাব। তাই আগামী দিনে যে গণ অভ্যুত্থান হবে তা হতে হবে সমাজতন্ত্রের আদর্শবাদী শক্তির নেতৃত্বে তবেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধিত হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন,বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আজ গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নানা পরিসংখ্যানের আড়ালে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার থেকে মানুষের বঞ্চনার বাস্তবতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রশ্নটি কেবল শিক্ষার্থীদের দাবি নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ নির্মাণের অপরিহার্য শর্ত।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাতে তা ২ শতাংশের পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ কীভাবে বাস্তব শিক্ষার মান, অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধায় রূপান্তরিত হবে—সে প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মনে করে, শিক্ষার সংকটকে কেবল প্রশাসনিক সংস্কার, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন কিংবা নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে বিবেচনার প্রবণতা থেকে বের করে এনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। প্রয়োজন পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের উন্নয়ন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, আবাসন ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ।
শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত নয়—বরং সম্প্রসারিত করতে হবে। জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিক্ষক ও কর্মচারীর শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, আবাসিক হল, পরিবহন ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের ধারার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আজ আরও জরুরি। শিক্ষা যদি ক্রমশ ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীর হবে। একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ তার পরিবারের অর্থনৈতিক সামর্থ্য দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না। রাষ্ট্রকে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে শ্রমজীবী, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সমান মর্যাদায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
শিক্ষার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের সম্পর্কও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ, মানবিকতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ঘৃণার ক্ষেত্র নয়, বরং জ্ঞান, যুক্তি, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মনে করে, ছাত্রসমাজ কেবল ভবিষ্যতের নাগরিক নয়; বর্তমান সমাজেরও সক্রিয় অংশ। শিক্ষা ও ছাত্রজীবনের সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হওয়া, নিজেদের দাবি উত্থাপন করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়া ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক ভূমিকার অংশ। তবে ছাত্ররাজনীতি হতে হবে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বার্থকেন্দ্রিক, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতিমুখী এবং স্বাধীন চিন্তার বিকাশে সহায়ক।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট তার দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলায় শিক্ষার অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, বিজ্ঞানমনস্কতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং বৈষম্যহীন সমাজের দাবিকে সামনে রেখে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। সংগঠনের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন সেই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পর্ব। এই সম্মেলন অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বর্তমান বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মধারা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করবে।
একটি গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বিচ্ছিন্ন কোনো দাবি নয়। এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, গণতান্ত্রিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। তাই শিক্ষার সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ছাত্রসমাজের নিজস্ব দাবি ও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে সমন্বিত করতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে আমরা বৈষম্যহীন, সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী শিক্ষার দাবিকে আরও সুসংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ছাত্ররাজনীতির অধিকার এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করছি।
সম্মেলন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহবান জানানো হয়। এবং দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলন থেকে একই সাথে দক্ষিণ এশীয় বামপন্থী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপর নয়া উদারনৈতিক আক্রমণ, শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।
গত ২-৫ আগস্ট’২৬ ২০ তম কাউন্সিলের মাধ্যমে ২১ তম কমিটি গঠিত হয়। ১৬ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ।
সভাপতি – রিনা মুর্মু
সহসভাপতি -অনিক কুমার দাস
সাধারণ সম্পাদক -হারুন অর রশিদ
সাংগঠনিক সম্পাদক – মিজানুর রহমান
দপ্তর সম্পাদক – ইনজামামুল
অর্থ সম্পাদক – অদিতি ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক – গোলাম মাওলা
স্কুল বিষয়ক সম্পাদক – সারমিন সুলতানা
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক- সোহাগী সামিয়া
সদস্য:
বিশ্বজিৎ নন্দী
মিরাজ উদ্দিন
সুজন আহমেদ
রাজিব সূত্রধর
তানজিল হোসেন মুনীম
সাইফুল ইসলাম
সুপ্রকাশ রায়
শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram