spb-logo

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রতিবাদ

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ, পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনার দাবি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। প্রবাসীদের জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জোটটি বলেছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সক্রিয় ও দৃঢ় কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছে তারা।

১৮ অক্টোবর রোববার গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে আগাম অবহিত না করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তাদের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং পরিবারকে যথাসময়ে জানানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

নেতারা বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো গুরুতর ঘটনায় স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে উল্লেখ করে তারা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও ব্যাখ্যা আদায় করতে হবে। পাশাপাশি, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো তথ্য পেয়েছিল কি না, আটক ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা অভিযোগ করেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তির ঝুঁকি সম্পর্কে যথাসময়ে তথ্য সংগ্রহ, কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তাদের আইনগত অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। অথচ প্রবাসীদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপের অভাব দেশের জন্য মর্যাদাহানিকর।

তারা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতি নতজানু আনুগত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। জাতীয় মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার ভিত্তিতেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ ঘটনা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘শিক্ষা’ নেওয়ার বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়। নেতারা বলেন, প্রবাসীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সেই দায়িত্ব এড়িয়ে ভুক্তভোগীদের সতর্কতার উপদেশ দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং নিহতদের পরিবারের শোক ও বেদনাকে উপেক্ষা করার শামিল।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী অভিবাসী কর্মীদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং বেতন না দেওয়ার মতো অভিযোগের কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগের দাবি জানান নেতারা।

তারা আরও বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের শ্রম ও অবদানে বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়। অথচ বিদেশের মাটিতে তাদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে তা তাদের অবদানের প্রতি অবিচার। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

সূত্র: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram