spb-logo

প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: এক দশকে ১০৬৫ মরদেহ ফেরায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের উদ্বেগ

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম লোগো

প্রবাসে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, দক্ষ শ্রমশক্তি নির্মাণ এবং আইএলওর তিনটি কনভেনশন অবিলম্বে অনুসমর্থনের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। গত এক দশকে বিদেশ থেকে ১ হাজার ৬৫ জন নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

আজ ৭ নভেম্বর ২০২৬ সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী প্রবাসী নারী শ্রমিকদের মরদেহ ফেরার সংখ্যা, মৃত্যুর কারণ এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে জীবিকার সন্ধানে গত এক দশকে প্রায় দশ লক্ষাধিক নারী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। এর প্রায় ৪৪ শতাংশ বা তারও বেশি গেছেন সৌদি আরবে; এরপর জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই নারীদের সিংহভাগ গৃহশ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত। ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫ জন নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮৬টি এসেছে সৌদি আরব থেকে—মোট সংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭০ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে, যাঁদের ১১২ জনই সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মৃত্যুসনদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’, ‘হার্ট অ্যাটাক’, ‘দুর্ঘটনা’ কিংবা ‘আত্মহত্যা’ লেখা থাকলেও মানবাধিকার সংস্থা ও পরিবারগুলোর দাবি অনুযায়ী এসব মৃত্যুর পেছনে প্রধানত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনই দায়ী। মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের মতো দেশে নারীর প্রতি মধ্যযুগীয় ও ভোগসর্বস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সেখানে নারী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার বেশি, যা এক পর্যায়ে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাতে পারে।

তাঁরা বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩-তে বিদেশে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের কথা বলা থাকলেও নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার অভাবে তাঁরা মানসম্মত কাজ পান না। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় স্বজনদের মরদেহ দাফন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না; সংশ্লিষ্ট দেশ মৃত্যুসনদে যা লিখে দেয়, তা-ই মেনে নিতে হয়। অথচ জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ ফেরার পর আবার ময়নাতদন্ত ও তদন্তের সুযোগ আছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত আইএলওর ৯৭ ও ১৪৩ নম্বর কনভেনশন এবং গৃহশ্রমিকদের শোভন কাজ–সংক্রান্ত ১৮৯ নম্বর কনভেনশন বাংলাদেশ আজও অনুসমর্থন করেনি। ফলে দেশে ও প্রবাসে কর্মরত নারী গৃহশ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজের অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই। রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও রাষ্ট্র রেমিট্যান্সের সুফল ভোগ করছে, কিন্তু এর জোগানদাতাদের প্রতি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছে।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram