spb-logo

পাবনায় বজ্রপাতে ছয়জন নিহত: ক্ষতিপূরণ ও সুরক্ষার দাবি সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের লোগো

পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তিনজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের জন্য বিবৃতি প্রদান করেছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর বৃষ্টির সময় বজ্রপাত শুরু হলে বিলে মাছ ধরতে থাকা ব্যক্তিরা পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে বজ্রপাতের আঘাতে ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন আহত হন। নিহতদের অধিকাংশই কিশোর ও তরুণ। তাঁদের এই অকালমৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর দেশের কৃষক, জেলে, দিনমজুর, গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারাচ্ছেন। গত ১০ বছরে প্রায় ৪ হাজার শ্রমজীবী মানুষ কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশেষ করে জীবিকার প্রয়োজনে যাঁদের খোলা মাঠ, বিল, হাওর ও জলাশয়ে কাজ করতে হয়, তাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। আমরা মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের দায় সবচেয়ে কম বহন করেও বাংলাদেশের শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হওয়া মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু হলে কেবল সাময়িক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা, জীবিকার নিশ্চয়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সামাজিক সুরক্ষার অংশ এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার। নেতৃবৃন্দ, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে আজীবন আয়ের মানদণ্ড বিচারে উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, যেসব পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত হয়েছেন, তাঁদের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও নির্ভরশীল সদস্যদের জীবিকা, খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহত তিনজনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শারীরিক অক্ষমতা সৃষ্টি হলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, বিল, হাওর, নদী, কৃষিজমি ও অন্যান্য বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসরণ করে বজ্রনিরোধক নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, কৃষক, জেলে, শ্রমিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে পর্যাপ্ত সরকারি বাজেট ও জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পাবনার এই মর্মান্তিক ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় একটি সমন্বিত, অধিকারভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবন, জীবিকা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া বা অনুদানের বিষয় নয়, বরং তাঁদের অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তগণ অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা করছি।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram