বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধাদানকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জামাত ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধা ও সরকারের উদাসীনতার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
আজ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ পত্রিকায় দেওয়া এক বিবৃতিতে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এ নিন্দা ও ক্ষোভ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মানিক পশারী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচারে সাক্ষী দিয়েছিলেন। এটাকে অজুহাত করে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য যে কবর খোঁড়া হয়েছিল, সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নির্ধারিত স্থানে শ্রদ্ধা জানানোর পরিবর্তে পুলিশলাইনে অতি সন্তর্পণে তা জানানো হয়।
তাঁরা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের বাধায় শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে অত্যন্ত চুপিসারে টর্চের আলোয় দুইজন নারী কবর খুঁড়ে তাঁকে দাফন করেছেন। এটি দেশের জন্য চরম লজ্জার। সরকার স্বাধীনতাবিরোধী জামাতের কাছে আত্মসমর্পণ করে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়ে মানিক পশারী সঠিক কাজটিই করেছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, গলায় জুতার মালা পরানোসহ সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার কাজটি করেছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এরা চব্বিশ দিয়ে একাত্তর মুছে দিতে চেয়েছে।
তাঁরা বলেন, কিন্তু এরা জানে না, মুক্তিযুদ্ধ একটি জনযুদ্ধ। এটি বাংলার জনগণের অস্তিত্ব ও আবেগের বিষয়। ফলে একাত্তরে যেমন এদের পরাজয় হয়েছে, আবারও তাদের পরাজয় অনিবার্য।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
বিবৃতিতে বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়ে এরা চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। সরকারের উচিত এই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। তা না হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে সরকারও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন প্রেরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।





