spb-logo

এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ ও কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্নতায় গভীর উদ্বেগ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের লোগো

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছাত্রনেতা রিনা মুর্মু ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ আজ এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এবার ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, আর ফেল করেছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। অর্থাৎ পাশ করেছে মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র ৫২.১২%, যা গত ২২ বছরে পাশের হারে সর্বনিম্ন। এর ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দ্বার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আবার জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশই নেয়নি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। ফলে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে মাত্র সাড়ে ৯ লাখ। আগের বছরের অকৃতকার্য ছাত্রসহ এবছর পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর ৪৭.৮৮% অকৃতকার্য হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যে কোনো পরীক্ষার ফল প্রকাশ মানে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ নয়, একইসাথে শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়নের ফল প্রকাশ হয়। তাই কোনো শিক্ষার্থী পাশ বা ফেল করলে সেটি শুধু তার ওপর নির্ভর করে না, এটি গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথেই যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এদেশের শিক্ষানুরাগী মানুষ শিক্ষার মানের অবনমন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বৃদ্ধির বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উচ্চ পাশের হারও ছিল বাস্তবে শিক্ষার চলমান সঙ্কটের প্রকাশ। শিক্ষাখাতে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে শিক্ষার সিংহভাগ ব্যয়ভার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকেই বহন করতে হয়। পর্যাপ্ত সরকারি কলেজের অভাবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবককে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করতে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। কলেজভেদে নির্বাচনী পরীক্ষার পূর্বে ফরম পূরণ করতেই শিক্ষার্থী প্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার কারণে ছাত্রদের কোচিং ও প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে হয়। বই-খাতাসহ শিক্ষা উপকরণের দামও দিনদিন বাড়ছে। ফলে ‘টাকা যার, শিক্ষা তার’ এই নীতিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চলছে। এছাড়াও বড় শহর, মফস্বল শহর ও গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষক সংখ্যা ও মানসহ শিক্ষার নানাবিধ আয়োজনের তীব্র বৈষম্য বিরাজ করছে। এবছর ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের সিংহভাগ ইংরেজি ও আইসিটি পরীক্ষায় ফেল করেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বেশিরভাগ কলেজে এই দুই বিষয়ের শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়াও আইসিটির প্রয়োজনীয় ল্যাবের ঘাটতি আছে। কলেজগুলোতে শিক্ষকের পদ খালি থাকলেও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রকৃত শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য সরকারের দিক থেকে কার্যকর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বরঞ্চ দিনদিন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। সুতরাং ফলাফলের এই বিপর্যয়ের দায় ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দিয়ে এসব সংকট আড়াল করলে তাতে কোন লাভ হবে না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে তাদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু যারা পরীক্ষা দিবে তাদের পুনরায় ফরম পূরণ করতে হবে। ফলে আবারও বড় অঙ্কের টাকা শিক্ষার্থীদের খরচ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি পুনরায় ফরম পূরণের ফি না নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এই সকল শিক্ষার্থীরা কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হবে, তা অতিদ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ শিক্ষাব্যবসা প্রতিরোধ ও শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের বহন করার দাবি আদায় এবং সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন, একই ধারার গণতান্ত্রিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার সংগ্রামে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শেয়ার করুন:WhatsAppXTelegram