গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের রিমান্ড বাতিল করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, হামলা-নির্যাতন-ছাঁটাই-হয়রানি বন্ধের আহবান
নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর বর্বর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা, গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের রিমান্ড বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তি এবং হামলা-নির্যাতন-ছাঁটাই-হয়রানি বন্ধের আহবান জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের জন্য বিবৃতি দিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রম আইনের সংশোধনের কারণে অধিকাংশ শ্রম খাতের মজুরি পুনঃনির্ধারণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হলেও পোশাক শিল্প মালিকদের আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চলতি বছর মজুরি বোর্ড গঠন করতে অস্বীকার করায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পে-স্কেল ঘোষণার পরপরই আরেক দফা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়, মজুরি মেয়াদ অতিক্রান্ত হতে চললেও মজুরি বোর্ড গঠিত না হওয়া, অনেক কারখানায় নিয়মিত মজুরি পরিশোধ না করা, শ্রমিকদের চাকরি অবসানজনিত পাওনা ঠিক পরিমাণ ও সময়মতো পরিশোধ না করা, ডাটাবেজের নামে হাজার হাজার শ্রমিককে কালোতালিকাভুক্ত করে বেকার রাখা বর্তমান শ্রমিক অসন্তোষের অন্যতম কারণ। অর্থাৎ, শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি এবং তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করার দায় কারখানা মালিক, মালিক সংগঠনের নেতৃত্ব আর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপরেই বর্তায়।
নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, একদিকে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলো, অপরদিকে শ্রমিকদের কাছে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টার পরিবর্তে তাদের উপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন চালানোর চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক নেতাদের রিমান্ড নেওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে যা শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো ভাবেই সহায়ক নয়। তাই, পুলিশ প্রশাসনের অতি উৎসাহিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে আর মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে কাজ করছে তা স্পষ্ট করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্য বিলোপের আকাঙ্ক্ষায় সংগঠিত ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব প্রতিটি কর্মক্ষম মানুষের জন্য ন্যায্য মজুরি ভিত্তিক কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা। সেই সরকারের সময় দেশের প্রধান শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিশ্চয় বৈষম্য বিলোপের চেতনার প্রতিফলন ঘটবে এটা প্রত্যাশা। নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করে কোনো গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধার বা মজুরি দাবির যুক্তিকে আড়াল করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানান।
সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক এড. সৌমিত্র কুমার দাস প্রেরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।





